ADVERTISEMENT

অ্যাসিড হামলায় আক্রান্ত পাঁচ নারীই অগ্নিমিত্রা পালের শো স্টপার

ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পালের তৈরি পোশাকে শো স্টপার হয়ে এবার র‍্যাম্প মাতালেন পাঁচজন অ্যাসিড আক্রান্ত মহিলা।

ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পালের তৈরি পোশাকে শো স্টপার হয়ে এবার র‍্যাম্প মাতালেন পাঁচজন অ্যাসিড আক্রান্ত মহিলা। বিশেষ এই অনুষ্ঠানে ফ্যাশন জগত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতী মানুষেরা। রাজ্য মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজাও শনিবার উপস্থিত ছিলেন এই ফ্যাশন শোতে। তাঁর কথায়, “ এই মেয়েরা অ্যাসিড হামলার শিকার নয়, এঁরা আসলে হামলা থেকে বেঁচে ওঠা প্রাণ। তিনি আরও বলেন, সরকার সবসময় এমন নারীদের পাশে রয়েছে যারা কোনও না কোনওভাবে হামলা এবং নির্যাতনের শিকার। তাঁদের জন্য রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে জরুরি চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, “তাঁরা সরকারের কাছে আবেদন জানালে আমরা তাঁদের আইনি সাহায্য দিতেও প্রস্তুত।”

 অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে শশী পাঁজা বলেন, "আমার সবথেকে ভালো লেগেছে ওদের আত্মবিশ্বাস দেখে। কেউই নিজেদের পোড়া চামড়া নিয়ে এতটুকুও বিব্রত নয়। প্রকৃত সৌন্দর্য ভেতর থেকেই আসে।” ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “এই পাঁচজন মহিলা আক্ষরিক অর্থেই ‘শো স্টপার’! ওনারা যে কষ্টটা সহ্য করেছেন, বা যেভাবে নিজেদের জীবনে লড়াই করে গিয়েছেন সেই কাহিনির সামনে কোনও সেলিব্রিটির গল্পও ফিকে হয়ে আসে।” এই অনুষ্ঠানে অ্যাসিড হামলাকারীদের শাস্তির বিষয়টিও উঠে আসে। অগ্নিমিত্রার কথা, “যদি আমরা ধর্ষণের বিরুদ্ধে এমন তীব্র প্রতিবাদ করতে পারি, একই তীব্রতা আমাদের প্রয়োজন অ্যাসিড আক্রান্তদের জন্যও।”

এই পাঁচজন নারীদের লড়াই বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "এঁদের মধ্যে একজনকে তাঁর স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই অ্যাসিড ছুঁড়ে পুড়িয়ে দেয় কারণ তাঁর মেয়ে হয়েছিল। মেয়েকে নিয়ে আলাদা লড়াই করে বাঁচতে শুরু করে সে। দু’বছর আগে তাঁর মেয়েও মারা যায়। আমি কেবল তাঁকে বলেছিলাম যাই হোক মুখের হাসিটুকু যেন না যায় মাথা উঁচু করে লড়াই করে যেতেই হবে।” শনিবার বেঙ্গল ক্লাবে ‘তনয়া’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, মিমি চক্রবর্তী,কাঞ্চনা মৈত্র, চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন, নৃত্যশিল্পী অলকানন্দা রায়।